স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ বা পরিমেল নিয়মাবলি ও আইন কানুন


পরিমেলবন্ধ বা পরিমেল নিয়মাবলি ও আইন কানুন
 পরিমেলবন্ধ বা পরিমেল নিয়মাবলি ও আইন কানুন

স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ ( Memorandum of Association)

যে দলিলে যৌথ মূলধনী কোম্পানির নাম , ঠিকানা , উদ্দেশ্য , দায় , ক্ষমতা , মূলধন ও মূলনীতিসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে তাকে স্মারকলিপি বা সংঘস্মারক বা পরিমেলবন্ধ বলা হয় । এটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল । সংঘস্মারক বা স্মারকলিপি ছাড়া কোম্পানি গঠিত হতে পারে না । তাই এক কথায় একে কোম্পানির গঠনতন্ত্র বলা হয় । এতে কোম্পানির নিবন্ধনের শর্তাবলি উল্লেখ থাকে এবং এটি কোম্পানির নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে । এ নির্দিষ্ট সীমার বাহিরে কোম্পানি কোনো কার্য সম্পাদন করতে পারে না । 


উপরি - উক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়-

 i .স্মারকলিপি কোম্পানির মূল সনদ ।   

ii . এ দলিলকে কোম্পানির সংবিধান বলা যায় ।  

iii . স্মারকলিপি কোম্পানির কার্যাবলির সীমানা নির্ধারণ করে । 

কোম্পানি আইনের ৬ ধারায় শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ দায় কোম্পানির স্মারকলিপিতে নিম্নোক্ত বিষয়াদি থাকতে হয়:

১. কোম্পানির নাম 

২. কোম্পানির অবস্থান বা ঠিকানা 

৩. উদ্দেশ্যসমূহ 

৪. সদস্যদের দায় 

৫ . ৬ . শেয়ার ও মূলধনের পরিমাণ 

৬ . কোম্পানির ন্যূনতম চাঁদা প্রদানের সম্মতিপত্র 


স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ হচ্ছে কোম্পানির মূল দলিল যার মাধ্যমে এর কার্যক্ষেত্র ও ক্ষমতার সীমা নির্দেশ করা হয় এবং কোম্পানির সামগ্রিক কাঠামো তৈরি হয় । স্মারকলিপির বর্ণিত ক্ষমতার বাহিরে কোম্পানি কোনো কাজ করলে তা বেজাইনি হিসেবে পরিগণিত হবে । তাই এ দলিল প্রণয়নকালে কোম্পানির প্রবর্তকগণকে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় 


পরিমেল নিয়মাবলি Articles of Association 

পরিমেল নিয়মাবলি কোম্পানির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল । যে দলিলের মধ্যে যৌথ মূলধনী কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলি বলে । এতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের পারস্পরিক সম্পর্ক , অধিকার , ক্ষমতা এবং পরিচালকের অধিকার , ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ম - কানুন লিপিবদ্ধ থাকে , তাকে কোম্পানির সংঘবিধি বা পরিমেল ক্ষমতা , কর্তব্য , দায় - দায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়সহ কোম্পানির কাজকর্মের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকে । এটি স্মারকলিপির অধীন একটি দলিল । সাধারণত স্মারকলিপিতে যে সব উদ্দেশ্য বর্ণিত থাকে সেসব উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কীরূপ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে তাই পরিমেল নিয়মাবলিতে লিপিবদ্ধ থাকে । 

১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২ ( ১ ) ( গ ) ধারায় বলা হয়েছে যে , ' সংঘবিধি ( Articles ) বলতে তফসিল -১৩ বিধৃত যতটুকু কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ততটুকুসহ ঐ কোম্পানির সংঘবিধিকে বোঝাবে ।

চার্লসওয়ার্থ ও কেইন ( Charlesworth and Cain ) - এর ভাষায় , ' সংঘবিধি হলো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার নিয়মাবলি । ( ' The articles of association are the regulations for the internal arrangements and management of the company . ' ) 

বিচারপতি লর্ড কেয়ার্নস ( Lord Cairns ) - এর মতে , ' সংঘবিধি হলো কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল , যাতে পরিচালকদের ক্ষমতা , অধিকার ও কর্তব্য বর্ণিত থাকে ; কারবার পরিচালনার পদ্ধতি ও প্রকৃতি লিপিবন্ধ থাকে । এবং বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনার নিয়মাবলি পরিবর্তনের পদ্ধতি ও প্রকৃতি নির্ধারিত হয় । 


উপরি - উক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়— 

i. পরিমেল নিয়মাবলি কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যাবলি সংক্রান্ত দলিল। 

ii . পরিমেল নিয়মাবলি কোম্পানির ২ য় গুরুত্বপূর্ণ দলিল।   

iii .এ দলিলে কোম্পানির কার্যাবলি সম্পাদনের পদ্ধতি ও প্রকৃতির উল্লেখ থাকে । 


সংক্ষেপে কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যাবলি পরিচালনার নিয়ম সংবলিত দলিলকে পরিমেল নিয়মাবলি বলে । 


প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক । অবশ্য পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কোনো পরিমেল নিয়মাবলি তৈরি না করেও ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে বর্ণিত তফসিল -১ ব্যবহার করতে পারে । 

পরিমেল নিময়াবলিতে সাধারণত যেসব বিষয় উল্লেখ থাকে সেগুলো হলো— 

১. কোম্পানির নাম ও ঠিকানা : 

২. নিবন্ধিত প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ; 

৩. দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার নিয়মাবলি ; 

৪. পরিচালকের সংখ্যা ; 

৫. পরিচালকের নাম , ঠিকানা , পেশা ও ক্রয়কৃত শেয়ার সংখ্যা ; 

৬. পরিচালকদের যোগ্যতামূলক শেয়ার সংখ্যা ; 

৭. পরিচালক নিয়োগ বা নির্বাচন পদ্ধতি ; 

৮. পরিচালকের যোগ্যতাসূচক শেয়ার ; 

৯. পরিচালকের দায়িত্ব , কর্তব্য অধিকার ও ক্ষমতা ; 

১০. পরিচালকদের অবসর গ্রহণ , দায়িত্ব অব্যাহতি ও অপসারণ সম্পর্কিত নিয়ম ; 

১১. ব্যবস্থাপক ও সচিব নিয়োগ পদ্ধতি ; 

১২. সলিসিটর , দালাল বা অবলেখকের নাম , ঠিকানা ও পেশা ; 

১৩. ব্যাংকারের নাম ও ঠিকানা ; 

১৪. হিসাব নিরীক্ষকের নাম , ঠিকানা ও নিয়োগ সম্পর্কিত নিয়ম ; 

১৫. কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিচিত ; 

১৬. বিভিন্ন শ্রেণির শেয়ার মালিকদের দায় - দায়িত্ব , ক্ষমতা ও অধিকার ; 

১৭. অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ; 

১৮. কোম্পানির ন্যূনতম মূলধনের পরিমাণ ; 

১৯. কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ও প্রকৃতি ; 

২০. কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ; 

২১. শেয়ার বণ্টন ও মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি ; 

২২. শেয়ার হস্তান্তর নিয়মাবলি ; 

২৩. মূলধন সংগ্রহ , সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন পদ্ধতি ; 

২৪. কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা ও বণ্টনের নিয়ম ; 

২৫. ভোট গ্রহণ ও পরিচালনা পদ্ধতি ; 

২৬. বিভিন্ন ধরনের সভা আহ্বান পদ্ধতি : 

২৭. বিভিন্ন ধরনের সভা পরিচালনা পদ্ধতি 

২৮. কোম্পানির ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা ও পদ্ধতি ; 

২৯. কোম্পানির সিল সংগ্রহ , সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নিয়মাবলি ; 

৩০. কোম্পানির বিলোপ সাধন সম্পর্কিত নিয়ম ইত্যাদি ।





Related Keyword:

পরিমেলবন্ধ কি..?

পরিমেল মানে কি..?

পরিমেল নিয়মাবলী বা সংঘবিধি কি..?

স্মারকলিপি বলতে কী বোঝায়..?

কোম্পানির আচরণবিধির উদ্দেশ্য কি







Previous Post Next Post