যৌথ মূলধনী কোম্পানি কি ও যৌথ মূলধনী কোম্পানির বৈশিষ্ট্য। 


যৌথ মূলধনী কোম্পানি
যৌথ মূলধনী কোম্পানি

যৌথ মূলধনী কোম্পানির ধারণা Concept of Joint Stock Company 

বহুসংখ্যক লোক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রচলিত কোম্পানি আইন অনুসারে চিরন্তন অস্তিত্ব সম্পন্ন যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করে , তাকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে । এ ধরনের ব্যবসায়ের মূলধন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে যৌথভাবে সংগ্রহ করা হয় বলে এ জাতীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বলা হয় । আইন দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বিশিষ্ট ব্যবসায়ই হলো যৌথ মূলধনী কোম্পানি । প্রত্যেক যৌথ মূলধনী কোম্পানির একটি নিজস্ব নাম থাকে । কোম্পানির যাবতীয় কাজ সেই নামে পরিচালিত ও সম্পাদিত হয় । 


কোম্পানি নিজস্ব নামে গঠিত ও নিব लিত হওয়ার সাথে সাথে চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকার লাভ করে । কোম্পানি ও মালিক পৃথক সত্তার অধিকারী হওয়ার কারণে কোম্পানির এক বা একাধিক সদস্যের মৃত্যু হলে বা দেউলিয়া হলেও যৌথ মূলধনী কোম্পানির বিলুপ্তি ঘটে না । বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন ২ এর ১ ( ঘ ) ধারা অনুসারে “ কোম্পানি বলতে এই অধীনে গঠিত এবং নিবন্ধিত কোন কোম্পানি বা বিদ্যমান কোম্পানিকে বোঝায় । 


উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে , যৌথ মূলধনী কোম্পানি এমন এক ধরনের ব্যবসায় যা- 

১. কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট 

 . সদস্যদের দায় সীমাবদ্ধ 

৩. চিরন্তন বা আজীবন অস্তিত্ব সম্পন্ন 

 8. নিজস্ব নাম ও সীলমোহর দ্বারা পরিচালিত 

৫. শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য 


যৌথ মূলধনী কোম্পানির বৈশিষ্ট্য 

Characteristics of Joint Stock Company 

কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে । যেহেতু আইন দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত সেহেতু এর কিছু আইনগত বৈশিষ্ট্য আছে । আইনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি আরও কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষা করা যায় । যৌথ মূলধনী কোম্পানির বৈশিষ্ট্যকে দুইভাগে ভাগ করা যায় । যথা : ১. আইনানুগ বৈশিষ্ট্য ; ২. সাধারণ বৈশিষ্ট্য । 


আইনানুগ বৈশিষ্ট্য ( Legal characteristics


১ . আইন সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান ( Law created concern ) : এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দেশে বিদ্যমান ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান বলা হয় । আইন দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয় বলে একে আইনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান বলা হয়

২. কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা ( Artificial personality ) : থাকে । আইনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান বলে কোম্পানি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী হয়ে যার ফলে কোম্পানি নিজ নামে সিলমোহর ব্যবহার করতে পারে । কোম্পানি নিজ নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্যের সাথে চুক্তি ও লেনদেন করতে পারে । কোম্পানি তার অধিকার আদায়ের জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষের নামে মামলা করতে পারে । অপরদিকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও কোম্পানির নামে মামলা দায়ের করতে পারে । 

৩. চিরন্তন অস্তিত্ব ( Perpetual succession ) : যৌথ মূলধনী কোম্পানির অস্তিত্ব চিরন্তন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে । কারণ কোম্পানি আইন দ্বারা যৌথ মূলধনী ব্যবসায় গঠিত , নিবন্ধিত ও পরিচালিত হয় । আবার , কোম্পানির আইনের দ্বারাই এর পরিসমাপ্তি ঘটে । এর কোনো নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল নেই । কোম্পানির পরিচালক , শেয়ারহোল্ডারদের মৃত্যু বা মস্তিষ্ক বিকৃতি হলেও কোম্পানির বিলুপ্তি ঘটে না । 

৪. সীমাবদ্ধ দায় ( Limited liability ) : যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ে শেয়ার মালিকদের দায় সাধারণত সীমিত । শেয়ার মালিকগণ ক্রীত শেয়ারের মূল্য পর্যন্ত দায়বদ্ধ থাকেন । অর্থাৎ শেয়ার মূল্য ব্যতীত শেয়ারহোল্ডারদেরকে কোম্পানির কোম্পানিকে চিরন্তন অস্তিত্ব সম্পন্ন বলা হয় । অতিরিক্ত কোনো দায় পরিশোধ করতে হয় না । 

৫. সাধারণ সীলমোহর ( Common seal ) : যৌথ মূলধনী ব্যবসায় তার নিজস্ব নামে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় । য প্রত্যেক কোম্পানির তার নামের সীলমোহর থাকে । যা কোম্পানির সব লেনদেনে এবং কাগজপত্রে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক । 

৬. শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতা ( Transferability of share ) : যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের শেয়ার অবাধে হস্তান্তর করা যায় । কোনো শেয়ারহোল্ডার ইচ্ছে করলেই তার শেয়ার তৃতীয় পক্ষের কাছে খুব সহজে বিক্রয় বা হস্তান্তর করতে পারেন ।

৭. সদস্য সংখ্যা ( Number of shareholders : যৌথ মূলধনী কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী হয়ে থাকে । যেমন- প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ । জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন পর্যন্ত হতে পারে । 

৮ . নিবন্ধন ( Registration ) : যৌথ মূলধনী কোম্পানির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক । নিবন্ধন ছাড়া কোনো এই কোম্পানি গঠিত হতে পারে না । কোম্পানি আইন অনুযায়ী যৌথ মূলধনী কোম্পানিকে নিবন্ধিত হতে হয় [ ধারা ২ ( ১ ) ( ঘ ) ] 

৯. বিধিবদ্ধ দায়িত্ব ( Statutory responsibility ) : আইন অনুযায়ী যৌথ মূলধনী কোম্পানিকে হিসাব তৈরি , হিসাব নিরীক্ষার খাতাপত্র তৈরি , যথাসময়ে সভা আহ্বান এরূপ কিছু বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালন করতে হয় । 

সাধারণ বৈশিষ্ট্য ( General characteristics )

১. পর্যাপ্ত মূলধন ( Adequate capital ) : কোম্পানি ইচ্ছে করলেই জনসাধারণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয় করতে পারে । ফলে যৌথ মূলধনী কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে অধিক মূলধন সংগ্রহ করতে পারে । 

২. মুনাফা বন্টন ( Distribution of profit ) : পরিচালকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তক্রমে অর্জিত মুনাফার কিছু অংশ শেয়ারহোল্ডাদের মাঝে বণ্টন করা হয় । অবন্টিত মুনাফা ( অবশিষ্ট ) সাধারণত সঞ্চিতি তহবিলে ও অন্যান্য তহবিলে স্থানান্তর করা হয় । 

৩ . স্বেচ্ছা প্রণোদিত সংগঠন ( Voluntary association ) : কতিপয় ব্যক্তির স্বেচ্ছায় মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কোম্পানি গঠিত হয় । যা কোম্পানির নির্দিষ্ট আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় । 

8. কর প্রদান ( Tax payment ) : যৌথ মূলধনী কোম্পানির কর প্রদানের হার সাধারণত অধিক হয় । কোম্পানি আইন অনুযায়ী অর্জিত মুনাফার ওপর নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করা হয় । 

৫. স্বতন্ত্রধর্মী ব্যবস্থাপনা ( Distinctive management ) : কোম্পানির সকল শেয়ারহোল্ডারগণ ব্যবসা পরিচালনায় অংশ গ্রহণ করতে পারে না । শেয়ারহোল্ডার দ্বারা নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদ দ্বারা ব্যবসা পরিচালনা করা হয় । 

৬. গণতন্ত্রের অনুসরণ ( Following democracy ) : কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত করা হয় । গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসরণ করে কোম্পানির পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের গরত দেওয়া হয় ।





Related Keyword:

যৌথ মূলধনী কোম্পানির চুক্তিপত্র

যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন

যৌথ মূলধনী কোম্পানির গঠন প্রণালী ব্যাখ্যা কর

যৌথ মূলধনী কোম্পানির সুবিধা ও অসুবিধা

যৌথ মূলধনী কোম্পানির প্রকারভেদ




Thank You for visit Our Website uniqueupdatebd.com









Previous Post Next Post