বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এর সকল নিয়ম-কানুন ও বিষয়। ( Bangladesh Sugar and Food Industries Corporation ( BSFIC ) 





চিনি কলগুলো আধুনিকায়ন ও নিয়ন্ত্রণ এবং চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা হলো বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন । চিনি শিল্পে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ এ প্রতিষ্ঠানটিই নিয়ে থাকে । 



১৯৭২ সালের ১ জুলাই রাষ্ট্রপতির ২৭ নং অধ্যাদেশের আওতায় বাংলাদেশ চিনি কল করপোরেশন ( BSMC ) ও বাংলাদেশ খাদ্য ও সহযোগী শিল্প কর্পোরেশন ( BFAIC ) এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে একত্র করে ১৯৭৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় । 



প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে একজন চেয়ারম্যান ও পাঁচটি বিভাগের পাঁচজন পরিচালক থাকেন । 


বিভাগগুলো হলো— ফিন্যান্স , মার্কেটিং , প্রোডাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং , প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা বিভাগ । 


দেশের ১৭ টি জেলায় এ সংস্থার শাখা আছে । এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে:- 


• উন্নতমানের ও উচ্চফলনশীল আখ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। 

• চিনি কলসমূহের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে উৎপাদন করা।

• কার্যকর বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে আখের মূল্য স্থিতিশীল রাখা। 

• চিনি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনার জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিনি কল প্রতিষ্ঠা করা । 



উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের জন্য বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে । যেমন : -


• ইক্ষু চাষ ও মাড়াই , প্রক্রিয়াজাত করা , চিনি উৎপাদন , রেকটিফাইড স্পিরিট , ডিনচার্ড স্পিরিট , ফরেনলিকার উৎপাদন। 

• উৎপাদন , বণ্টন , মূল্য নির্ধারণ , শ্রম ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি সংক্রান্ত সরকারি নীতি বাস্তবায়ন। 

• চিনি কল সংলগ্ন এলাকায় যোগাযোগের জন্য রাস্তা , সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ।

• প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ , সম্পদের কার্যকর ও সঠিক ব্যবহার। 

• প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া। 

• প্রতিষ্ঠানের পণ্য , উপজাত পণ্য এবং অন্যান্য উপাদান বিক্রির জন্য নীতিমালা প্রণয়ন প্রভৃতি । 




বর্তমানে উক্ত করপোরেশন এর অধীনে ১৫ টি চিনি কল , ১ টি ডিস্টিলারি ইউনিট , ১ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা ও ৩ টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে । ১৫ টি চিনি কলের বার্ষিক চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ২.১০ লাখ মেট্রিক টন । দেশে বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন । দেশে চিনির প্রকৃত চাহিদার তুলনায় সরকারের অধীন ইক্ষুভিত্তিক চিনি কলগুলোতে চিনি উৎপাদন অনেক কম হয় । ফলে , বেসরকারি খাতে স্থাপিত ৫ / ৬ টি সুগার রিফাইনারিতে উৎপাদিত চিনি এবং আমদানিকৃত চিনি দ্বারা এই ঘাটতি পূরণ করা হয় । 



চিনি শিল্পকে লাভজনক শিল্পে উন্নীত করার লক্ষ্যে উক্ত সংস্থা সম্প্রতিকালে বেশ কিছু প্রকল্প ও কর্মসূচি নিয়েছে । এর মধ্য আছে- উত্তরবঙ্গে কোজেনারেশন পদ্ধতিতে চিনির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন , ফরিদপুর ও জয়পুরহাটে ডুয়েল ফুয়েল বয়লার সংযোজনের মাধ্যমে অমৌসুমে উৎপাদিত আখ থেকে হোয়াইট সুগার উৎপাদন । এছাড়া কার্ড চিপস ও টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে আখের চারা এবং স্বল্প সময়ে পরিপক্ব আখ উৎপাদন , ভোজ্য তেলের কারখানা স্থাপন প্রভৃতি ।



Related Keyword :

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন নিয়োগ ২০২৩

বাংলাদেশ চিনি শিল্প 

বাংলাদেশে কয়টি সুগার মিল আছে।

সুগার মিলের নতুন খবর।

চিনি শিল্প ভবন।





ধন্যবাদ আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য ভালো লাগলে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ঘুরে দেখুন। 


Previous Post Next Post