স্মারকলিপি কি.? স্মারকলিপির গুরুত্ব এবং স্মারকলিপিকে যৌথ মূলধনী কোম্পানির দলিল বলা হয় কেন..? 


স্মারকলিপি কি
স্মারকলিপি কি 

স্মারকলিপির গুরুত্ব ( Importance of Memorandum of Association ) 


স্মারকলিপি হলো যৌথ মূলধনী কোম্পানির প্রধান দলিল । এর ওপর ভিত্তি করেই কোম্পানি গঠিত হয় । এজন্যই স্মারক লিপিকে কোম্পানির গঠনতন্ত্র বা সংবিধান বলা হয় । এতে কোম্পানির নাম , ঠিকানা , উদ্দেশ্য , সদস্যদের দায়ের প্রকৃতি , মূলধন ও সম্মতির বিষয় উল্লেখ থাকে । 


এর মাধ্যমে কোম্পানির ক্ষমতার সীমারেখা নির্দিষ্ট করা হয় । এজন্য একে কোম্পানির অধিকারের সনদ নামেও অভিহিত করা হয় । স্মারকলিপি ব্যতীত কোন যৌথ মূলধনী কোম্পানির ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনা এবং পারবেনা। স্মারকলিপি থাকা প্রত্যেকটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক।  


নিম্নোক্ত কারণে যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ →


 উদ্দেশ্য নির্ধারণ ( Determining objectives ) :

স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল । এ দলিঙ্গে কোম্পানির যাবতীয় উদ্দেশ্যের উল্লেখ থাকে । এতে বর্ণিত উদ্দেশ্যের বাইরে কোম্পানি আইনত কোনো কাজ করতে পারে না । এরূপ কোনো কাজ করা হলে তা ক্ষমতা বহির্ভূত কাজ বলে বিবেচিত হয় ।  



কার্যাবলির সীমা নির্ধারণ ( Determining the limit of activities ) : সংঘস্মারকে কোম্পানির যাবতীয় কার্যাবলির সীমা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে । উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করার পাশাপাশি স্মারকলিপিতে অনুমোদিত ও ইস্যুকৃত যে মূলধনের পরিমাণ দেওয়া থাকে , তা - ও কোম্পানিকে মেনে চলতে হয় ।  


সম্পর্ক নির্ধারণ ( Determining relation ) : স্মারকলিপির মাধ্যমে কোম্পানির সাথে শেয়ারহোল্ডার ও তৃতীয় পক্ষের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ হয় । অর্থাৎ , সংঘস্মারক কোম্পানির সাথে শেয়ারহোল্ডাদের সম্পর্ক নির্ধারণে চুক্তিপত্রের ভূমিকা পালন করে । 


প্রামাণ্য দলিল ( Proofed document ) : স্মারকলিপিতে কোম্পানির নাম , ঠিকানা , উদ্দেশ্য , মূলধন , সদস্যদের দায় ও সম্মতির উল্লেখ থাকে । ক্ষমতা ও সম্পর্কের বিষয় হিসেবে সংঘস্মারক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে । 


নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনা ( Regulatory management ) : স্মারকলিপিতে উল্লেখ নেই এমন সব কাজ বেআইনি । বলে বিবেচিত হয় । এ কারণে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত নিয়মানুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় । এতে কাজের বৈধতা সৃষ্টি হয় । কোম্পানি সঠিক নিয়মে চলতে পারে । 


দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা ( Awareness of responsibility ) : স্মারকলিপিতে উল্লেখ নেই এমন যেকোনো কাজের জন্য পরিচালকগণ তৃতীয় পক্ষের কাছে দায়বদ্ধ হন । এতে তাদের আইনি ঝামেলায় পরতে হয় । এ কারণে পরিচালকগণ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকেন ।


সংঘস্মারকের প্রাধান্য ( Primacy of memorandum ) : স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলির মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে শেয়ারহোল্ডাররা পরিমেল নিয়মাবলি সংশোধন করতে পারেন । এক্ষেত্রে স্মারকলিপি বহাল বা অপরিবর্তিত থাকে । অর্থাৎ , স্মারকলিপির গুরুত্ব সবসময়ই বেশি । 



সবশেষে বলা যায়: কোম্পানি গঠন , পরিচালনা ও বিলোপসাধনে স্বারকলিপি বা সংঘস্মারক অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে । এজন্য একে কোম্পানির প্রধান বা মূল দলিল বলা হয় । স্মারকলিপি ব্যতীত কোন যৌথ মূলধনী কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। তাই স্মারকলিপি করা বাধ্যতামূলক। 




Related Keyword :

যৌথ মূলধনী কোম্পানি কি.? 

স্মারকলিপি কি..? 

স্মারকলিপির গুরুত্ব..? 

স্মারকলিপি লেখার নিয়ম.? 

যৌথ মূলধনী কোম্পানি কাকে বলে এর বৈশিষ্ট্য.? 




ধন্যবাদ আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য ভালো সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ঘুরে দেখুন।


Previous Post Next Post