ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা ( Universality of Management ) 


ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা
ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা 

সর্বজনীন ( Universal ) শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনো ধরনের মতানৈক্য ছাড়া সর্বত্র স্বীকৃত সব সময় ও সব ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগযোগ্য । ব্যবস্থাপনার কাজের ধরন ও প্রকৃতি অবস্থাভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও সব ধরনের সংগঠনে ও পরিমণ্ডলে উক্ত বিষয়ের প্রয়োগ হয়ে থাকে । ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় সম্পাদিত কাজ ( পরিকল্পনা প্রণয়ন , সংগঠিতকরণ , কর্মসংস্থান , নির্দেশনা , প্রেষণা , সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ ) যেমন বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য , তেমনি একটি ছোট প্রতিষ্ঠানেও প্রয়োগযোগ্য । বর্তমান সময়ে ব্যক্তি , পরিবার , সমাজ , প্রতিষ্ঠান তথা সব ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকীয় জ্ঞানের প্রয়োগ হয়ে থাকে । 



পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা তথা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার উপস্থিতি ও প্রয়োগ দেখা যায় । পরিবারের প্রধান ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও উপকরণ কাজে লাগিয়ে পরিবারে শান্তি বজায় রাখতে পারেন । আবার , একজন রাষ্ট্রপ্রধানও দেশের জনগণ ও সম্পদ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করতে পারেন । অর্থাৎ এমন কোনো ক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠান নেই , যা ব্যবস্থাপনা ছাড়া চলতে পারে । সুতরাং ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব সব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান । এজন্য প্রায় ২,৫০০ বছর আগে প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস মন্তব্য করেন , Management is Universal . অর্থাৎ , ব্যবস্থাপনা হচ্ছে সর্বজনীন । আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরি ফেয়ল এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক এফ . ডব্লিউ . টেলর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সক্রেটিসের এ মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন । 



আইরিচ এবং কুঞ্জ বলেন , Management thus applies to small and large organizations , to profit and not for profit enterprise , to manufacturing as well as service industries অর্থাৎ , ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সংগঠন , মুনাফাভোগী এবং অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান , উৎপাদনকারী অথবা সেবামূলক শিল্প সর্বত্রই ব্যবস্থাপনা সমভাবে প্রয়োগযোগ্য । 



আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরি ফেয়লের মতে :- Management is an universal activity which is equally applicable in all type of organization whether social , religious or business and industrial . ' অর্থাৎ , ব্যবস্থাপনা হলো সর্বজনীন কাজ যা সামাজিক , ধর্মীয় বা ব্যবসায় ও শিল্পসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে সমভাবে প্রয়োগযোগ্য । 



এল.এ. এ্যালেনের মতে :-

ব্যবস্থাপনা নীতিগুলো সর্বজনীন । ' বর্তমান বিশ্বে ইউরোপ ও আমেরিকার উন্নত ও শক্তিধর দেশগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার ভূমিকাই মুখ্য । সারা বিশ্বই ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে । 



সুতরাং বলা যায় :- ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা নীতি , পদ্ধতি , প্রক্রিয়া প্রভৃতি প্রয়োগে পার্থক্য হলেও এর মৌলিক বিষয়গুলো চিরন্তন প্রকৃতির । ব্যবস্থাপনা কাজ ছাড়া কোনো সমাজ , ব্যক্তি , প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না । তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় , ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয় ।




Related Keyword :

ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনীয়তা কাকে বলে..? 

ব্যবসার সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা। 

ব্যবস্থাপনা সার্বজনীন নেতা উক্তি। 

Previous Post Next Post