HSC প্রস্তুতি ফিন্যাস্ন ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র কমন সৃজনশীল জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর ২০২৩


ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা 


জ্ঞানমূলক 


■ ব্যাংক শব্দের উৎপত্তি 


প্রশ্ন -১ . ব্যাংকের পূর্বসূরী কারা ? 

উত্তর : স্বর্ণকার , মহাজন ও ব্যবসায়ী শ্রেণিকে ব্যাংক ব্যবস্থার পূর্বসূরী বলা হয় । 


প্রশ্ন -২ . ' Bank ' শব্দটির আভিধানিক অর্থ কী ? 

উত্তর : ' Bank ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নদীর তীর , জলাশয় , লম্বা টুল , ধনভান্ডার ইত্যাদি । 


প্রশ্ন -৩ . ব্যাংক কী ? উত্তর : ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা আমানত হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করে , ঋণ দেয় ও অন্যান্য ব্যাংকিং কাজ সম্পন্ন করে । 


প্রশ্ন -৪ . ব্যাংকিং কী ? উত্তর : ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত সব কাজকে ব্যাংকিং বলা হয় । ■ ব্যাংকিং ব্যবসায়ের প্রকৃতি ও ধরন 


প্রশ্ন -৫ . শাখা ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংক দেশ বিদেশে শাখা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং কাজ পরিচালনা করে তাই শাখা ব্যাংক । 


প্রশ্ন -৬ . সরকারি ব্যাংক কী ? উত্তর : সরকারি মালিকানায় গঠিত , পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হলো সরকারি ব্যাংক । 


প্রশ্ন -৭ . বেসরকারি ব্যাংক কী ? উত্তর : বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানায় গঠিত ও পরিচালিত ব্যাংক হলো বেসরকারি ব্যাংক । ও 


প্রশ্ন -৮ . যৌথ মালিকানাধীন ব্যাংক কী ? উত্তর : সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় গঠিত , নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত ব্যাংক হলো যৌথ মালিকানাধীন ব্যাংক । 

প্রশ্ন -৯ . স্বায়ত্তশাসিত ব্যাংক কী ?। উত্তর : যেসব ব্যাংক সরকারের বিশেষ আইন দ্বারা ও নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় তাকে স্বায়ত্তশাসিত ব্যাংক বলে ।

আরো পড়ুন:


প্রশ্ন -১০ . রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কী ? উত্তর : সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -১১ . বিদেশি ব্যাংক কী ? উত্তর : সম্পূর্ণভাবে বিদেশি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ব্যাংককে বিদেশি ব্যাংক বলা হয় । 


প্রশ্ন -১২ . একক ব্যাংক কী ? // উত্তর : যে ব্যাংকের কাজ শুধু একটি নির্দিষ্ট অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে একক ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -১৩ . গ্রুপ ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংক ব্যবস্থায় অনেকগুলো ছোট ছোট ব্যাংক একটি বড় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় তাই হলো গ্রুপ ব্যাংক । 


প্রশ্ন -১৪ . মিশ্র ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের কাজসমূহ একত্রে পালন করে তাকে মিশ্র ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -১৫ . কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ? উত্তর : জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে সরকারি মালিকানায় পরিচালিত ব্যাংকই হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক । 




প্রশ্ন -১৬ . বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম কী ? উত্তর : বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম হলো ' বাংলাদেশ ব্যাংক ' । 


প্রশ্ন -১৭ , বাণিজ্যিক ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে আমানত সংগ্রহ , ঋণদান ও অন্যান্য আর্থিক কাজ সম্পন্ন করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -১৮ . বিশেষায়িত ব্যাংক কী উত্তর : যেসব ব্যাংক গ্রাহকদের প্রয়োজন ও অর্থনীতির বিশেষ কোনো দিক নিয়ে ব্যাংকিং কাজ পরিচালনা করে তাকে বিশেষায়িত ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -১৯ . শিল্প ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংক বিভিন্ন শিল্প - কারখানা স্থাপন , সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয় তাকে শিল্প ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -২০ . BDBL এর পূর্ণ নাম কী ? উত্তর : BDBL- এর পূর্ণ নাম হলো ' Bangladesh Development Bank Limited ' | 


প্রশ্ন -২১ . ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক কী ? উত্তর : স্বল্পোন্নত ও শিল্পে অনগ্রসর দেশগুলোতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের জন্য যে ব্যাংক অর্থ সরবরাহ করে সেটিই হলো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক । 


প্রশ্ন -২২ . বিনিয়োগ ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংক একটি দেশের শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয় তাকে বিনিয়োগ ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -২৩ . সমবায় ব্যাংক কী ? উত্তর : দেশের প্রচলিত সমবায় আইন অনুসারে গঠিত , পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাংককে সমবায় ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -২৪ . গ্রামীণ ব্যাংক কী ? উত্তর : বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় যে ব্যাংক গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ - সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে তাকে গ্রামীণ ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -২৫ . আমদানি - রপ্তানি ব্যাংক কী ? উত্তর : আমদানি - রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে আমদানি - রপ্তানি ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -২৬ . DBHFC- এর পূর্ণ নাম কী ? উত্তর : DBHFC- এর পূর্ণ নাম হলো Delta Brac Housing Finance Corporation | 


প্রশ্ন -২৭ . সঞ্চয়ী ব্যাংক কী ? উত্তর : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ' সঞ্চয়গুলোকে যে ব্যাংক সংগ্রহ করে তাকে সঞ্চয়ী ব্যাংক বলে । 


প্রশ্ন -২৮ . IDB- এর পূর্ণরূপ কী ? উত্তর : IDB- এর পূর্ণরূপ হলো ' Islamic Development Bank | 


প্রশ্ন -২৯ . স্কুল ব্যাংকিং কাকে বলে ? উত্তর : স্কুলপড়ুয়া ছাত্র - ছাত্রীদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করে তাকে স্কুল ব্যাংকিং বলে । 


প্রশ্ন -৩০ , তালিকাভুক্ত ব্যাংক কী ? উত্তর : কোনো দেশের যে ব্যাংকসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত হয়ে পরিচালিত হয় সেসব ব্যাংককে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলা হয় ।




প্রশ্ন -৩১ . অ - তালিকাভুক্ত ব্যাংক কী ? উত্তর : যে ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গঠিত কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত নয় তাকে অ - তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে । । বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ বিধান। 


প্রশ্ন -৩২ . গ্ৰাহক বা মক্কেল কে ? উত্তর : গ্রাহক বা মক্কেল হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান , যার ব্যাংকে একটি হিসাব আছে এবং নিয়মিতভাবে ব্যাংকের সাথে লেনদেন করে । 


প্রশ্ন -৩৩ , ব্যাংকার কে ? উত্তর : ব্যাংকিং কাজে নিয়োজিত সব ব্যক্তিবর্গই হলো ব্যাংকার । 


প্রশ্ন -৩৪ . ব্যাসেল -২ কী ? উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন কাঠামো নির্ধারণের একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হলো ব্যাসেল -২ । 


প্রশ্ন -৩৫ . গারনিশি অর্ডার কী ? উত্তর : আদালত কর্তৃক ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের হিসাব বন্ধের নির্দেশকে গারনিশি আদেশ বলে ।




অনুধাবনমূলক প্রশ্ন - উত্তর দ


১ . আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার পূর্বসূরী কারা । 


উত্তর : আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার পূর্বসূরী স্বর্ণকার , মহাজন ও ব্যবসায়ী শ্রেণি । সভ্যতার শুরু থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুদ্রা ও অর্থের লেনদেনের সাথে কতিপয় ব্যক্তি যথা- স্বর্ণকার , মহাজন , ব্যবসায়ী প্রভৃতি জড়িত ছিল । মূলত তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাজ থেকে গড়ে উঠেছে আজকের এই আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থা । 


প্রশ্ন -২ . ব্যাংক কেন সঞ্চয় সংগ্রহ করে ? ব্যাখ্যা করো। 


উত্তর : ব্যাংক অর্থনৈতিক কাজ পরিচালনা করতে সঞ্চয় সংগ্রহ করে । ব্যাংক একজন সঞ্চয়কারী থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ অন্য একজন ঋণগ্রহীতাকে দেয় । এই কাজের জন্যই ব্যাংক সঞ্চয় সংগ্রহ করে । মূলত সঞ্চয়কারীর অর্থ ঋণ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য ব্যাংক সঞ্চয় সংগ্রহ করে । 


প্রশ্ন -৩ . ব্যাংককে ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয় কেন ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : পরের অর্থ নিয়ে ব্যবসায় করে বলে ব্যাংককে ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয় । ব্যাংক প্রথমে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে এবং বেশি সুদে ঋণ হিসেবে গ্রাহকদের দেয় । ফলে একই সাথে ব্যাংক দেনাদার ও পাওনাদারের ভূমিকা পালন করে । তাই বলা যায় , ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করে তা ঋণ হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে ঋণের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত করে । 


প্রশ্ন -৪ . ব্যাংককে ধার করা অর্থের ধারক বলা হয় কেন ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : ব্যাংক একজনের জমাকৃত অর্থ অন্যজনকে ঋণ হিসেবে ধার দেয় । ব্যাংক গ্রাহকের অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে কিছু অর্থ জমা রেখে বাকিটা বেশি সুদে গ্রাহকদের ঋণ দেয় । আমানতের মাধ্যমে ধার করা অর্থ পরবর্তীতে ঋণ হিসেবে দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করে বলে ব্যাংককে ধার করা অর্থের ধারক বলে । 


প্রশ্ন -৫ . ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত কাজকে কী বলা হয় ? বুঝিয়ে লেখো । 


উত্তর : ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত কাজকে ব্যাংকিং বলা হয় । ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের সামগ্রিক কাজের সমন্বিত রূপ । বিভিন্ন হিসাব ( সঞ্চয়ী , চলতি , স্থায়ী ) খুলে ব্যাংক আমানত সংগ্রহ , ঋণদান , বিনিয়োগ , বিল বাট্টাকরণ , প্রত্যয়পত্র ইস্যু , এটিএম কার্ড ইস্যু ইত্যাদি কাজ করে , যা ব্যাংকিং নামে পরিচিত । ব্যাংকিং কাজ পরিচালনা করেন ব্যাংকার । 


প্রশ্ন -৬ . ব্যাংককে অর্থনীতির চালিকাশক্তি বলা হয় কেন ? 


উত্তর : ব্যাংক অর্থের যোগান ও এর সরবরাহের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখে বলে ব্যাংককে অর্থনীতির চালিকাশক্তি বলা হয় । ব্যাংক নোট ও মুদ্রার প্রচলন করে । অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানত সংগ্রহ করে । উৎপাদনের বিকাশে ঋণদান , লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে । এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয় । এজন্য ব্যাংককে অর্থনীতির চালিকাশক্তি বলা হয় । 


প্রশ্ন -৭ . ব্যাংককে ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি বলা হয় কেন ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করে বলে ব্যাংককে ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি বলা হয় । ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে অর্থের প্রয়োজন । ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে ব্যাংক থেকে স্বল্প , মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ঋণ নিতে পারে । তাছাড়া ব্যবসায়ের জন্য পণ্য আমদানি রপ্তানি করতেও ব্যাংকের সাহায্য প্রয়োজন হয় । 


প্রশ্ন -৮ . ব্যাংক কীভাবে বিনিময়ের মাধ্যমে সৃষ্টি করে ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : অর্থ ও অর্থের মূল্যে পরিমাপযোগ্য দলিলের দ্বারা ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে । চেক , ব্যাংক ড্রাফট , ক্রেডিট কার্ড , পে - অর্ডার ইত্যাদি হলো ব্যাংক সৃষ্ট বিনিময় মাধ্যম । এই সব দলিল ও উপকরণ দিয়ে সহজে অর্থ লেনদেন করা যায় । মূলত এসব দলিলের প্রচলন ঘটিয়ে ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে । 


আরো পড়ুন:

প্রশ্ন -৯ , জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : উন্নত ও বহুমুখী গ্রাহক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে । জীবনযাত্রার মান মানুষের আয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত । ব্যাংক গ্রাহকদের বহুমুখী সেবা দিয়ে মাথাপিছু ও জাতীয় আয় বাড়ায় । এতে মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হয় । 


প্রশ্ন -১০ . শাখা ব্যাংক বলতে কী বোঝায় ? 


উত্তর : যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি প্রধান অফিসের অধীনে দেশে - বিদেশে শাখা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যাংকিং কাজ করা হয় তাকে শাখা ব্যাংক বলে । শাখা , ব্যাংক একটি বৃহদায়তন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান । কারণ এর আর্থিক সামর্থ্য বেশি থাকে । বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে শাখা ব্যাংকের আওতাধীন । 


প্রশ্ন -১১ , একক ব্যাংক কি শাখা ব্যাংক থেকে আলাদা ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : সংগঠন কাঠামোর ভিত্তিতে একক ব্যাংক শাখা ব্যাংক থেকে আলাদা । একক ব্যাংক একটি ক্ষুদ্র আয়তন ও একক শাখা বিশিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও শাখা ব্যাংক আয়তনে বড় এবং বহুশাখা বিশিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান । শাখা ব্যাংক গঠনে বেশি মূলধনের প্রয়োজন হলেও একক ব্যাংক গঠনে কম পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন হয় । এছাড়া ঝুঁকি , মুনাফা , পরিচালন ব্যয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ের ভিত্তিতেও ব্যাংক দু'টি একটি অন্যটি থেকে আলাদা । 


প্রশ্ন -১২ . চেইন ব্যাংকিং বলতে কী বোঝায় ? 


উত্তর : যে ব্যবস্থায় সমজাতীয় কতগুলো ব্যাংক একই গোত্রের অধীনে নিজ নিজ স্বাধীন সত্ত্বা বজায় রেখে ব্যাংকিং কাজ করে তাকে চেইন ব্যাংকিং বলে । সাধারণত একক ব্যাংকগুলো বৃহদায়তন ব্যাংকিং সুবিধা দিতে পারে না । তাই এরা নিজেদের মাঝে একটি ঐক্য গড়ে তোলে । এতে কিছুটা হলেও তাদের অসুবিধা দূর হয় । আর এই ঐক্যের মাধ্যমে তাদের স্বাধীন সত্ত্বা বজায় থাকে ।



প্রশ্ন -১৩ . বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে মিশ্র ব্যাংক বলা হয় কেন ? 


উত্তর : যে ব্যাংক একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত উভয় ব্যাংকের কাজ করে তাকে মিশ্র ব্যাংক বলে । বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে কৃষি ও কৃষিজ পণ্যের উন্নয়নে কাজ করে । অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ ও ঋণদান করে । বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়েও জনসাধারণের সময় সংগ্রহ এবং তাদের ঋঋণদান করে । একই সাথে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত কাজের সাথে জড়িত বলে কৃষি ব্যাংককে মিশ্র ব্যাংক বলা হয় । 


প্রশ্ন -১৪ , তালিকাভুক্ত ব্যাংক কাকে বলে ? ব্যাখ্যা দাও । 


উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত ও নিয়ম - নীতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় সেগুলোকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে । তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় । তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক পৃথক আইনগত অস্তিত্ব ও সত্তার অধিকারী হয় । কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু দেশের অর্থ বাজারের অভিভাবক , তাই এ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো দেশের অর্থবাজারেরও সম্মানিত সদস্য হিসেবে গণ্য হয় । তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তালিকাভুক্ত হলেও ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সত্তা থাকে , যা বজায় রেখে তারা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে । মেনে চলার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে , যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্য 


প্রশ্ন -১৫ . ব্যাসেল -২ বলতে কী বোঝায় ? 


উত্তর : ব্যাসেল -২ হলো ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালনাগত ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য কতটুকু মূলধন আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা দরকার তার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড । ব্যাংকের নিজের মূলধন যাতে অপর্যাপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ না হয় এবং আমানতকারীদের যেন ঝামেলায় পড়তে না হয় , সেজন্য ব্যাসেল -২ এর উৎপত্তি । Bank for International Settlement ( BIS ) , ব্যাসেল -২ অনুসারে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিশোধিত মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেয় । ব্যাসেল - ২ - তে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ৩ টি বিষয় সুপারিশ করা হয়েছে যা Three Pillars of Basel - 2 নামে খ্যাত । 


প্রশ্ন -১৬ . ব্যাসেল -২ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয় ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধনের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণ , তদারকি পর্যালোচনা ও বাজার শৃঙ্খলা বজায়ে ব্যাসেল -২ প্রয়োগ করা হয় । ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির পরিমাপ ও মূলধন বিভাজনের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিধি - বিধান তৈরি ও তা উপস্থাপনের লক্ষ্যে ব্যাসেল -২ কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয় । এটিকে আন্তর্জাতিক স্মারক হিসেবে বিবেচনা করা হয় । 


প্রশ্ন -১৭ . গারনিশি অর্ডার কেন জারি করা হয় ? ব্যাখ্যা করো । 


উত্তর : গ্রাহকের কোনো হিসাব ক্লোক বা বন্ধ করা বা লেনদেন স্থগিত করার জন্য আদালত কর্তৃক ব্যাংকের ওপর গারনিশি অর্ডার জারি করা হয় । আদালত কর্তৃক ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের হিসাব বন্ধের নির্দেশকে গারনিশি আদেশ বলা হয় । পাওনাদারের পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আদালত ব্যাংকের প্রতি এরূপ আদেশ জারি করে । পাওনাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত যদি প্রমাণ পায় যে , আমানতকারী আবেদনকারীর কাছে দায়গ্রস্থ তবেই এরূপ নির্দেশ দিয়ে থাকে । 


প্রশ্ন -১৮ . ব্যাংকের তালিকাভুক্তির শর্তসমূহ উল্লেখ করো । 


উত্তর : দেশে বিদ্যমান ব্যাংকসমূহ যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতগুলো শর্ত পালন সাপেক্ষে তার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তখন সেসব ব্যাংককে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে । নিচে ব্যাংকের তালিকাভুক্তির শর্তসমূহ উল্লেখ করা হলো— 

১. নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিশোধিত মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল থাকতে হবে । 

২. নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে 

সংরক্ষণ । 

৩. নির্দিষ্ট পরিমাণ তারল্য সংরক্ষণ । 

৪. ব্যাংকিং কোম্পানি অথবা সংস্থা হতে হবে । 

৫. আর্থিক অবস্থার সাপ্তাহিক প্রতিবেদন দাখিল ।

৬ . প্রতিষ্ঠানটির সততার নিশ্চয়তা দেওয়া । 

৭. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ পালন ।




Related Keyword :

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা। 

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং খালেকুজ্জামান। 

HSC ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র।

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা কি..?



ধন্যবাদ আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য ✅






Previous Post Next Post