শাখা ব্যাংক (Branch Bank)


Advantage and disadvantages of branch banking

যে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান একটি প্রধান অফিসের অধীনে অসংখ্য শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কাজ পরিচালনা করে, তাকে শাখা ব্যাংক বলে। এ ধরনের ব্যাংক একই নামে দেশে ও বিদেশে শাখা খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রধান ব্যাংকের রীতি অনুযায়ী শাখা ব্যাংকগুলো পরিচালিত হয়। শাখা ব্যাংকের কোনো আলাদা সত্তা থাকে না।

প্রধান অফিসের প্রতিনিধি হিসেবে শাখা ব্যাংকগুলো তাদের কার্যাবলিও সম্পাদন করে থাকে। সুতরাং শাখা ব্যাংক বলতে আমরা বুঝি, একাধিক শাখা সমৃদ্ধ একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে। এই প্রতিষ্ঠান দেশে ও বিদেশে জনগণ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং ঋণ দেয়। সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শাখা ব্যবস্থা গড়ে উঠে। বর্তমানে পৃথিবীর সকল দেশেই শাখা ব্যাংক ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।

অধ্যাপক ম্যাকলিয়ড (Prof.Mcleod) : এর মতে শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা হচ্ছে সেই ব্যবস্থা যা দেশে বিদেশে অনেক শাখা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। (Branch banking system is that system of banking which controls and maintains many branches either inside the country or in aboard).

অধ্যাপক জে . এল . হেনসন ( Prof. J. L. Hanson ) - এর মতে , শাখা ব্যাংকিং হলো এমন এক ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা , যেখানে কোনো দেশে স্বল্পসংখ্যক ব্যাংক থাকে , তবে প্রতিটি ব্যাংকের অনেকগুলো শাখা কর্মরত থাকে । ( Branch banking means , a banking system with a small number of banks each with a large number of branches ) .

• শাখা ব্যাংক - এর বৈশিষ্ট্য ( Features of Branch Bank ) :

Advantage and disadvantages of branch banking


নিচে শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো -

১ . শাখা কার্যালয় ( Branch office ) : শাখা ব্যাংকিং - এ অনেকগুলো শাখা অফিস থাকে । শাখাগুলোর মাধ্যমেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কাজ পরিচালনা করে ।

২. মালিকানা ( Ownership ) : শাখা ব্যাংক সরকারি বা বেসরকারি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে ।

৩. কাজের পরিসর ( Scope of function ) : শাখা ব্যাংকের কাজের পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত । দেশে - বিদেশে শাখা স্থাপনের মাধ্যমে এর ব্যাংকিং কার্যক্রম চলে ।

8 . মূলধন ( Capital ) : যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শাখা ব্যাংক শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করে ।

৫. নিয়ন্ত্রণ ( Control ) : শাখাগুলো কেন্দ্রীয় অফিসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত । আর কেন্দ্রীয় অফিস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ।

৬ . আইনগত সভা ( Legal entity ) : নিজস্ব ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গঠিত হয় বলে শাখা ব্যাংকের পৃথক আইনগত সত্তা রয়েছে ।

৭ . পরিচালনা ( Operation ) : একটি শক্তিশালী পরিচালনা পরিষদের অধীনে সব শাখা পরিচালিত হয় । শাখাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রধান কার্যালয় ।

৮. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক ( Relation with central bank ) : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে শাখা ব্যাংকের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ।

৯. সংগঠন ( Organization ) : শাখা ব্যাংক অংশীদারি সমবায় , যৌথমূলধনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আকারে সংগঠিত হতে পারে ।

শাখা ব্যাংক - এর সুবিধা ( Advantages of Branch Bank ) : সম্প্রসারিত চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে একমাত্র শাখা ব্যাংক গ্রাহকের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে পারছে ।

Advantage and disadvantages of branch banking


শাখা ব্যাংকের সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ :-

১. বিস্তৃত সেবা ( Extensive service ) : জনগণের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হলো শাখা ব্যাংক ।

২ . পর্যাপ্ত মূলধন ( Sufficient capital ) : বিভিন্ন স্থানে শাখা থাকার কারণে এ ব্যাংক প্রচুর আমানত সংগ্রহ করতে পারে । এর ফলে বৃহৎ মূলধন গড়ে ওঠে ।

৩. দক্ষ ব্যাংকিং ( Skill banking ) : আর্থিক স্বচ্ছলতা বেশি হওয়ার কারণে এ ব্যাংক অধিক বেতন দিয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যাংকার নিয়োগ করতে পারে ।

৪ . অর্থ স্থানান্তর ( Money transfer ) : দেশে এবং বিদেশে শাখা ছড়িয়ে থাকে বলে এই সমস্ত ব্যাংকের মাধ্যমে সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে অর্থ পাঠানো যায় । এতে ঝুঁকিবিহীনভাবে অর্থ স্থানান্তর সম্ভব হয় ।

৫ . ঋণ নিয়ন্ত্রণ ( Credit control ) : দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে শাখা ব্যাংকের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ । এক্ষেত্রে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় ।

৬. মূলধনের গতিশীলতা ( Movilization ) : শাখা ব্যাংক জনগণের মূলধনের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট ভূমিকা রাখে ।

৭. কর্মসংস্থান ( Employment ) : শাখা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় । এ ধরনের ব্যাংকিং দেশের বেকার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ভূমিকা
রাখে ।

৮. জনগণের আস্থা ( Public trust ) : শাখা , বিনিয়োগ ও বিভিন্নমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে শাখা ব্যাংক স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করে ।

৯. পর্যাপ্ত আমানত ( Sufficient deposit ) : শাখা ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক সহজে পর্যাপ্ত আমানত সংগ্রহ করতে পারে ।

শাখা ব্যাংক - এর অসুবিধা ( Disadvantages of Branch Bank ) :


Advantage and disadvantages of branch banking


শাখা ব্যাংক ব্যবস্থার কিছু অসুবিধা নিচে তুলে ধরা হলো :

১. ব্যবস্থাপনার জটিলতা ( Management complexity ) : অসংখ্য শাখার কর্মচারী ও গ্রাহকের কারণে শাখা ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দেয় । ফলে সুষ্ঠুভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে দাড়ায় ।

২. সিদ্ধান্ত গ্রহণ ( Decision making ) : যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শাখাগুলোকে প্রধান কার্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় । ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় না ।

৩ . ঋণ গ্ৰহণ ( Obtaining credit ) : শাখা ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করতে আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন হয় । পর্যাপ্ত পরিমাণ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান অফিসের অনুমতি নিতে হয় ।

৪ . একচেটিয়া প্রভাব ( Monopoly business ) : শাখা ব্যাংক একটি বৃহদায়তন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে একচেটিয়া কাজ করতে পারে ।

৫. পরিচালন ব্যয় ( Operational cost ) : অধিক সংখ্যক শাখা স্থাপন করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয় ।

৬. বৈষম্য ( Descrimination ) : দেশের অনেক মূল্যবান সম্পদ এ ব্যাংকের হাতে কুক্ষিগত হয় , যা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ায় ।

Previous Post Next Post